শিরনাম দেখে বুঝতেই পারছেন এই লেখাটি বাউল দর্শন নিয়ে লেখা। এই লেখা পড়ার আগে চলুন লালনের কয়েকটি গান শুনা যাক।
বাউল দর্শনের কথা উঠলে এর পক্ষে-বিপক্ষে দুই ধরনের মতামতই পাওয়া যাবে। সেই প্রসঙ্গে আসবো একটু পরে তার আগে চলুন ফিরে যায় এক হাজার দুই শত বছর আগে অষ্টম শতাব্দীতে, মহারাজা গোপাল যখন বাংলাদেশে পাল রাজবংশ স্থাপন করেন। যখন এখানে বজ্রজান এবং মহজান এই দুই ধারার তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের প্রভাব তুঙ্গে । ব্রাহ্মণ্য ধর্মের অত্যাচারে ও বঞ্চনায় অনেক নীচু ও অনঅগ্রসর শ্রেণীর মানুষ তখন সহজীয়া বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন এবং পরে বাংলায় ইসলামের আগমন ঘটলে এরাই ইসলামে ধর্মান্তরিত হন। ইসলামে ধর্মান্তরিত হলেও তাঁরা তাঁদের পুরানো ধর্মীয় ভাবনা ও অভ্যাস কিছুটা বজায় রাখেন। অর্থাৎ সহজীয়া বৌদ্ধধর্মের অনেক ছাপ এঁদের মধ্যে থেকে যায় উপরন্ত ইসলামের সুফি মতবাদ দ্বারা এরা প্রভাবিত হয়। এরাই পরে ‘ফকির’ নামে পরিচিত হন। অপরদিকে ব্রাহ্মণদের বঞ্চনা ও শোষণ সত্ত্বেও নীচু শ্রেণীর বা দরিদ্র লোকেরা যাঁরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন না, তাঁরা বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষা নিলেন এবং তাঁদের মধ্যেও থেকে গেল ব্যবহৃত তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের অভ্যাসগুলি। বৌদ্ধ থেকে বৈষ্ণব ধর্মে রূপান্তর চিহ্নিত করার জন্য তাঁদের ডাকা হত নেড়া-নেড়ি। কারণ বৌদ্ধ ভিক্ষুকদের মত এঁরাও মস্তক মুণ্ডন করতেন। সমাজের উপরতলার মানুষের কাছে বঞ্চনা, শোষণ, লাঞ্ছনা পেয়ে সহজিয়ামতের বৈষ্ণব বৈরাগী এবং সুফিমতের মুসলমান ফকির সমাজ সমস্বার্থে ও সমসূত্রে একত্র হয়ে বাউল সম্প্রদায়ের জন্ম দিলো।
হিন্দু ----- তান্ত্রিক বৌদ্ধ ---- ইসলাম (সুফি)
। >------- বাউল দর্শন
।--------------------- বৈষ্ণব (সহজিয়া)
হিন্দু ----- তান্ত্রিক বৌদ্ধ ---- ইসলাম (সুফি)
। >------- বাউল দর্শন
।--------------------- বৈষ্ণব (সহজিয়া)
সমাজবদ্ধ সাধারন মানুষের কাছে এরা পাগল, ভবঘুরে, অসামজিক, ব্রাত্য, গোল্লায় যাওয়া নষ্ট জীবন কিংবা এক রহস্যময় গোপন সাধনা, বিষয়বৈরাগ্য -উদাসীনতা ।ধর্মগুরুদের কাছে বিরাট অধর্ম, ধর্মের এক নাম্বার শত্রু।
আসলে কি এই বাউল দর্শন?
আসলে কি এই বাউল দর্শন?

No comments:
Post a Comment